মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ

টপটেনের ভ্যাট ফাঁকি ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা

জরিমানা ১৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

মানসম্মত কাপড় কেনার জন্য ক্রেতারা দেশের নামকরা শো-রুমগুলোতে যায়। এসব শো-রুম গুলোতে কাপড় যেমন মানসম্মত তেমনি উচ্চ মূল্যও হয়। দেশের জনপ্রিয় শো-রুমগুলোর মধ্যে অন্যতম টপটেন। স্বাভাবিকভাবে যেহেতু কাপড়ের দাম বেশি, সে হিসাবে সরকারও মোটা অঙ্কের ভ্যাট পাওয়ার কথা। কিন্তু টপটেন ফেব্রিক্স এন্ড টেইলার্স লিমিটিডের এক শো-রুমে অভিযানের পরে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির তথ্য গোপন করে কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির দিচ্ছে। নথি সূত্রে জানা যায়, টপটেন ফেব্রিক্স বিক্রয়, টেইলারিং ফি,উৎস মূসক ও স্থান স্থাপনা ভাড়ার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সর্বমোট ফেব্রিক্স বিক্রয় করে ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ২৪৭৪৪ টাকা এবং টেইলরিং ফি বাবদ ১৬ কোটি ১২ লাখ ৪১,৫৮১ টাকার বিপরীতে মূসক দাখিলপত্রে ফেব্রিক্স বিক্রয় বাবদ দেখায় মাত্র ৯ কোটি ৩৩ লাখ ১৮,৩৬৫ টাকা এবং টেইলরিং ফি বাবদ মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ ৩১,৬৬৪ টাকা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ মূসক দাখিলপত্রে ফেব্রিক্স বিক্রয়ের ৩৯ কোটি ৪ লাখ ৬,৩৭৯ টাকা এবং টেইলরিং ফি বাবদ ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৯,৯১৭ টাকা কম প্রদর্শন করে। এতে ভ্যাট ফাঁকি পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৬ লাখ ৬৫৯১৩ টাকা।

মূসক আইন অনুযায়ী, ভ্যাট ফাঁকির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৪ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫৭৬৭ টাকা জরিমানা করেছে টপটেনকে। এক নথি সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

জব্দকৃত দলিলাদি থেকে জানা যায়, টপটেন ফেব্রিক্স এন্ড টেইলার্স লিমিটেডের এলিফ্যান্ট রোড শো-রুমে করদায়িতা নিরুপনে পরিদর্শন করে রাজস্ব কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানের মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি যেমন: সিপিইউ দুইটি,অডিট রিপোর্ট একটি, রেজিস্টার ২৪ টি, বাণিজ্যিক দলিলাদি আটটি জব্দ করা হয়।জব্দ করা দলিলাদি যাচাই বাছাই করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সর্বমোট ফেব্রিক্স বিক্রয় বাবদ ৪৮ কোটি ৩৭ হাজার ২৪,৭৪৪ টাকা এবং টেইলরিং ফি বাবদ ১৬ কোটি ১২ লাখ ৪১,৫৮১ টাকার বিপরীতে ভ্যাট দাখিলপত্রে ফেব্রিক্স বিক্রি ৯ কোটি ৩৩ লাখ ১৮,৩৬৫ টাকা এবং টেইলরিং ফি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩১,৬৬৪ টাকা প্রদর্শন করে । অর্থাৎ মূসক দাখিলপত্রে ফেব্রিক্স বিক্রির ৩৯ কোটি ৪ লাখ ৬,৩৭৯ টাকা এবং টেইলরিং ফি ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৯,৯১৭ টাকা কম প্রদর্শন করে। কম প্রদর্শিত টাকার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট যথাক্রমে ২ কোটি ৭২ লাখ ৩৭,৬৫৪ টাকা এবং ১ কোটি ৩২ লাখ ৮২,৭২০ টাকাসহ সর্বমোট ৪ কোটি ৫ লাখ ২০,৩৭৪ টাকা। একই অর্থবছর ২০১৯-২০ এ উৎসে মূসক ৩ কোটি ৩৩ লাখ ১২,৩৭৪ টাকা এবং ভাড়ার উপর প্রযোজ্য মূসক বাবদ ৮৭ লাখ ৩০,৪৫৩ টাকা অপরিশোধিত রয়েছে। পরবর্তীতে উপরোক্ত অপরিশোধিত ভ্যাট ৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩,২০২ টাকা পরিশোধের স্বপক্ষে কোন দালিলিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাখিল করতে পারে নাই, এতে মূসক ফাঁকির বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রমাণিত। অপরিশোধিত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পুরক শুল্ক আইন-২০১২ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা-২০১৬ অনুযায়ী আদায়যোগ্য ।

টপটেনের কর্তৃপক্ষকে ভ্যাট ফাঁকির কারণ দর্শনোর একটি নোটিশ দেয়া হয় এবং এই সংক্রান্ত একটি মামলাও হয়। এর বিপরীতে টপটেন কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত জবাব জমা দেয়। আবার পর্যালোচনার জন্য অতিরক্ত কমিশনার প্রমীলা সরকার এর তত্ত্বাবধানে এ দপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ এবং মোঃ জহিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাদের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ কোটি ১৬ লাখ ৬৫৯১৩ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে টপটেনকে জরিমানাসহ ভ্যাট প্রদানের জন্য আদেশ করে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট।

আদেশপত্রে বলা হয়,সংশ্লিষ্ট যাবতীয় দলিলাদি পর্যালোচনা করে পরিহারকৃত মূসক ৭ কোটি ২১ লাখ ৭৭,৮৮৪ টাকা এবং এ মূসকের উপর বিলম্বজনিত সুদ ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮,০২৯ টাকাসহ মোট ৯ কোটি ১৬ লাখ ৬৫,৯১৩ টাকা করদায় টপটেনের। একই সাথে যথাসময়ে প্রযোজ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান না করার জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১২ এর ধারা- ৮৫(১)(ড) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উপর ১৪ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫,৭৬৮ টাকা জরিমানা করা হলো।

এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে টপটেনের এইচআর বিভাগে যোগযোগ করলে বলেন, এই বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে পারব না। আপনি যেখানে তথ্য পেয়েছেন সেখানে যোগাযোগ করেন। এ কথা বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিক কল দিলেও কল ধরেননি।

ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে জানতে টপটেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সৈয়দ হোসনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেননি।

ঢাকা কমিশনারেট দক্ষিণের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, টপটেনের কয়েকটি মামলা আছে। পরিশোধে দেরি হওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানাও করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এতে এই প্রতিষ্ঠানের করদায় বেড়েছে।

আরো