রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:১৬ অপরাহ্ণ

‘আবীরের মতো মানুষ বন্ধু হিসেবে পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের’ — জয়া আহসান

ওপার বাংলার সিনেমাতেও জয়া আহসানের জনপ্রিয়তা সমানভাবে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পর্দার রসায়ন দর্শকদের কাছে বেশ পছন্দের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবীর সম্পর্কে জয়ার প্রশংসা আরও এক ধাপ উঁচুতে পৌঁছে যায়।

জয়া বলেন, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকের সঙ্গে কাজ করলেও আবীর তার কাছে আলাদা ধরনের মানুষ। তাকে তিনি খুব সহজ-সরল ও ঝামেলাহীন ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেন। জয়ার ভাষায়, “আমার সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে আবীরের সঙ্গেই। আর সত্যি বলতে, পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ জায়গা হলো আবীর।”

তিনি আরও জানান, আবীরকে কখনও তিনি কারও সমালোচনা করতে দেখেননি—না আড্ডায়, না কোনো আলোচনা সভায়। এমন কোনো মন্তব্যও করেন না, যা কারও মনে কষ্ট দিতে পারে। জয়ার মতে, এই নির্ভেজাল স্বভাবের কারণেই আবীর তার জীবনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি মজা করে বলেন, “টক-ঝাল গল্প সবাইই একটু-আধটু করে, হয়তো ওর মধ্যেও আছে—কিন্তু আমরা সেটা ধরতেই পারি না!”

জয়া মনে করিয়ে দেন, “পুতুল নাচের ইতিকথা”-র কাজের সময় তারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে আবীরকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা তাকে বিস্মিত করে। তিনি বলেন, “আবীর ঢোকার মুহূর্তে চারদিকে যা ঘটল! আমাদের দিকে আর কেউ তাকায়ই না। সবাই শুধু ওকেই দেখছে। সত্যিই অসাধারণ লাগে—ভক্তদের এ রকম ভালোবাসা সামলানো খুব কঠিন, কিন্তু আবীর খুব সুন্দরভাবে সামলে নেয়।”

তাঁর মতে, আবীরের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। সংসার ও কাজ—দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু আবীর তা করে দেখিয়েছে। “পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে আবার কাজের জায়গাটাও নিখুঁতভাবে ম্যানেজ করে—এটা সত্যিই প্রশংসনীয়,” বলেন জয়া।

তিনি আরও যোগ করেন, “আবীরের অনুভূতি খুব খাঁটি—যার জন্যই হোক না কেন। এটা কোনো ভান নয়। ও যেন সারাজীবন এমনই থাকে— সেই চাই। আমরা অনেক সময় যেটা করতে পারি না, ও সেটা নিখুঁতভাবে করে দেখায়। কাজ আর পরিবার—দুটোই যে সামঞ্জস্য রাখা যায়, আবীর বারবার সেই উদাহরণ দিয়েছে।”

সবশেষে জয়ার মন্তব্য—“আবীরের মতো একজন মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।”

আরো