আইসিএমএবি রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ হিসাব ও অর্থ গবেষণায় উৎকর্ষতার স্বীকৃতি
বিডি মেইল ডেস্ক
দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হল রুমে সফলভাবে আইসিএমএবি রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানে হিসাব, অর্থ ও ব্যবস্থাপনা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান ও উৎকর্ষতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ট্রাস্টি, ব্র্যাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, চেয়ারম্যান, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), প্রফেসর ড. এ.এস.এম. আমানুল্লাহ, উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রফেসর আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপাচার্য, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।
আইসিএমএবি রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর আওতায় মোট ১৪টি শীর্ষ গবেষণা প্রবন্ধ নির্বাচিত হয়। এসব গবেষণাকে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। অ্যাওয়ার্ড অব এক্সেলেন্স ক্যাটাগরিতে ১,০০,০০০ টাকা পুরস্কার অর্থসহ সম্মাননা পান অনুপ কুমার সাহা এবং ইমরান খান। অ্যাওয়ার্ড অব ডিস্টিঙ্কশন ক্যাটাগরিতে ৭৫,০০০ টাকা পুরস্কার অর্থসহ সম্মানিত হন মো. মামুনুর রশিদ, দেওয়ান মাহবুব হোসেন এবং মো. সাইফুল আলম। অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট ক্যাটাগরিতে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার অর্থসহ পুরস্কৃত হন সোহেল মেহেদী, শামসুন নাহার এবং দায়ানা জালালুদ্দিন। এছাড়াও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আরও ৫টি অ্যাওয়ার্ড অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রদান করা হয়, যার প্রতিটির পুরস্কার অর্থ ২০,০০০ টাকা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. তারেক রানা, সহযোগী অধ্যাপক, আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল “অ্যাকাউন্টটিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স রিসার্চ ইন ইমার্জিং মার্কেটস: ট্রেন্ডস, গ্যাপস, অ্যান্ড ফিউচার রিসার্চ ডিরেকশনস,” যেখানে উদীয়মান অর্থনীতিতে হিসাব ও অর্থ গবেষণার বর্তমান ধারা, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইসিএমএবি সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এফসিএমএ বলেন, “গবেষণা হলো প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, পেশাগত উৎকর্ষতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি। আইসিএমএবি রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে আমরা এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দিতে চাই, যা বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখে এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “হিসাব ও অর্থ বিষয়ে মানসম্মত গবেষণা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইসিএমএবির মতো প্রতিষ্ঠান একাডেমিয়া, নীতি নির্ধারক ও পেশাজীবীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিত গবেষকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ছবি তোলার আনুষ্ঠানিকতা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আইসিএমএবি রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ বাংলাদেশের গবেষণাভিত্তিক চিন্তাধারা ও পেশাগত উৎকর্ষতা এগিয়ে নিতে আইসিএমএবির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।