শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রচিন্তার রাজনীতিতে তারেক রহমান: ইনক্লুসিভ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা

মীর মাসুদ আলী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু বছর ধরেই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকা মানুষের সংখ্যা কম নয়। সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও যারা রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং মৌলিক স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা করেন—তাদের বড় একটি অংশ সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও বক্তব্য নতুন করে মূল্যায়ন করছেন।
এক সময় তারেক রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলেও, বিগত কয়েক মাসে রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনেককেই বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব—এই মৌলিক রাষ্ট্রীয় ইস্যুগুলোতে তাঁর বক্তব্য ছিল লক্ষ্যভিত্তিক ও বাস্তবায়নমুখী।
যেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় আবেগ কিংবা আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের মতো বিষয়গুলো ঘিরে গতানুগতিক পপুলিস্ট রাজনীতি দেখা গেছে, সেখানে তারেক রহমানকে তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তিনি সহজ জনপ্রিয়তার পথে না গিয়ে পলিসি মেকিং, ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত সমস্যাগুলোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
গত প্রায় দেড় বছরে তাঁকে অহেতুক বিতর্ক কিংবা হালকা রাজনৈতিক আলোচনায় জড়াতে দেখা যায়নি। বরং নিয়মিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি কতটা সফল হবেন—তা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে। তবে চলমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেক সাধারণ নাগরিক অন্তত ভরসা রাখার মতো একজন নেতৃত্বের সন্ধান পাচ্ছেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—স্বাধীনভাবে চলাফেরা, পোশাক নির্বাচন এবং মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারেক রহমানের অবস্থান। এই মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতাগুলো রক্ষার প্রতিশ্রুতি তিনি শুধু বক্তব্যে নয়, রাজনৈতিক দর্শনের অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন যা তাঁকে আলাদা করেছে।
১৭ বছর নির্বাসনে থেকেও তারেক রহমান যেভাবে শত প্রতিকূলতার মুখে নিজের দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপরীতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে রাজপথে সক্রিয় রেখেছেন—তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
দীর্ঘ এই সময় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও সংযত, পরিশুদ্ধ ও পরিণত করেছে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।
শহীদ ওসমান বিন আব্দুল হাদীসহ অসংখ্য শহীদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যদি তিনি তাঁর ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তার রাজনীতিকে বাস্তব রূপ দিতে সক্ষম হন।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রাক্কালে তাঁর দেশে ফেরা অনেকের কাছেই প্রতীকী ও অর্থবহ। লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই ভূখণ্ডে যদি স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা ফিরে আসে, তবে সেটিই হবে এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

আরো