শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ

আবু সাঈদ হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বেরোবির ‍পলাতক শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামানের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি গোমেল বড়ুয়ার ১০ বছর এবং আরো দুই ছাত্রলীগ নেতার পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণা উপলক্ষে এদিন সকালে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৫ মার্চ রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৬ জুন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে ৩০ জুন তা আমলে নেওয়া হয়।

মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল। বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক।

গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন তীব্র হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।

আরো