সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

প্রথম প্রান্তিকে আইপিডিসির নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৯ শতাংশ

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রথম বেসরকারি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। শক্তিশালী নিট সুদ আয়, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, “প্রথম প্রান্তিকের এ ফলাফল আইপিডিসির ব্যবসায়িক ভিত্তির দৃঢ়তা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের প্রতিফলন। গ্রাহকদের আস্থা আরও শক্তিশালী করা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা এবং সব অংশীজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.১৬ টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ০.০৯ টাকা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিচালন আয় ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এ সময়ে মোট সুদ আয় ৬ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। ঋণ বিতরণে সতর্কতা ও সম্পদ পোর্টফোলিওর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনার কারণে এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে সুদ ব্যয় মাত্র ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ১৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা তহবিল ব্যয় কমে আসার ইঙ্গিত দেয়। ফলে নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের দীর্ঘ সময় ধরে থাকা মার্জিন চাপে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
বিনিয়োগ আয়ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। সরকারি সিকিউরিটিজ ও বিস্তৃত ট্রেজারি পোর্টফোলিও থেকে উচ্চ আয় হওয়ায় বিনিয়োগ খাতে আয় ৩২ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কমিশন ও ব্রোকারেজ আয় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। সব মিলিয়ে মোট পরিচালন আয় বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।
প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় মাত্র ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রভিশনের আগের মুনাফা ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির ঋণ, অগ্রিম ও লিজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় সামান্য ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কম। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চলমান পরিস্থিতিতে বাছাইকৃত ঋণ বিতরণ নীতির প্রতিফলন হিসেবে এ চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে মোট আমানত ১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকায়, যা গ্রাহকদের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী তহবিল ভিত্তির প্রতিফলন। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে ১৮ দশমিক ০১ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৭ দশমিক ৮৫ টাকা।

আরো