মুরগির কোন অংশ খাওয়া স্বাস্থ্যকর, কোনটা এড়িয়ে চলবেন?
অনেকেই মুরগির মাংস খেতে ভীষণ পছন্দ করেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মুরগি রান্না করা অনেক পরিবারেরই নিয়মিত অভ্যাস। কেউ পছন্দ করেন রানের মাংস, আবার কেউ বুকের অংশ। স্বাদ, পুষ্টি ও সহজলভ্যতার কারণে মুরগি আমাদের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।
মুরগির মাংস প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এটি পেশি গঠন ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, বি১২, নিয়াসিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। তাই সঠিকভাবে ও সঠিক অংশ বেছে খেলে এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে একটি বিষয় অনেকেই জানেন না,মুরগির সব অংশ কিন্তু সমানভাবে স্বাস্থ্যকর নয়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক মুরগির মাংস কোন অংশ না খাওয়াই ভালো-
চামড়া না খাওয়া
মুরগির চামড়া অনেকের কাছেই অত্যন্ত সুস্বাদু। কিন্তু এই অংশেই থাকে সবচেয়ে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট। অতিরিক্ত পরিমাণে চামড়া খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য চামড়া বাদ দিয়ে মুরগির মাংস খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি
মুরগির ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। সমস্যা হলো, উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলেও কিছু তাপ-সহনশীল ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি নাও নষ্ট হতে পারে। এসব ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এই অংশটি খাওয়া এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
রানের মাংস (লেগ ও থাই)
মুরগির লেগ পিস বা থাই অনেকেরই প্রিয়, কারণ এগুলো বেশি নরম ও রসালো। তবে এই অংশগুলোতে চর্বি ও ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। যাদের ওজন বেশি বা কোলেস্টেরল সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই অংশগুলো সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
অন্ত্র ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এড়িয়ে চলা
মুরগির অন্ত্র সবসময়ই জীবাণু ও ময়লায় ভরা থাকে। যতই পরিষ্কার করা হোক না কেন, এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়। এছাড়া যকৃৎ (লিভার) ও বৃক্ক (কিডনি) শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে ফেলে। ফলে এসব অঙ্গে বিষাক্ত উপাদান বা অ্যান্টিবায়োটিক জমা থাকতে পারে। যদিও মুরগির যকৃৎ পুষ্টিগুণে ভরপুর, তবুও এতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। তাই যাদের কোলেস্টেরল সমস্যা রয়েছে, তাদের এটি কম খাওয়া উচিত।
লেজ ও ঘাড়ের অংশ
মুরগির লেজ ও ঘাড়ের অংশে বিভিন্ন গ্রন্থি থাকে, যেখানে সহজেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে। এই অংশগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে বা বেশি খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মুরগি থেকে দূরে থাকা
বাজারে মুরগির নানা প্রক্রিয়াজাত খাবার পাওয়া যায়। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লবণ, প্রিজারভেটিভ এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে হৃদরোগ, স্থূলতা ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া ডুবো তেলে ভাজা মুরগি অনেকের কাছে প্রিয়। তবে এই ধরনের রান্নায় ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটিও হৃদরোগ, ওজন বৃদ্ধি ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ভাজা মুরগির পরিবর্তে ঝোল বা গ্রিল করা মুরগি খাওয়াই ভালো।
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অংশ কোনটি?
মুরগির বুকের মাংস (চামড়া ছাড়া) সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়। এতে চর্বি কম এবং প্রোটিন বেশি থাকে। যারা ডায়েট মেনে চলেন বা ফিট থাকতে চান, তাদের জন্য এটি সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
মুরগির মাংস রান্নার আগে সবসময় ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ভেতরের রক্ত জমাট বা রক্তনালী পরিষ্কার থাকে। আধসেদ্ধ বা কাঁচা মুরগির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
ভালোভাবে রান্না না করলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি থাকে, যা মারাত্মক হতে পারে। তাই মুরগি সবসময় পর্যাপ্ত তাপে সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত।
মুরগির মাংস পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার, তবে এর সব অংশ সমান উপকারী নয়। সঠিক অংশ বেছে খাওয়া, পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা এবং সঠিকভাবে রান্না করাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। তাই মুরগি রান্না বা খাওয়ার সময় শুধু স্বাদের দিকে নয়, স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন।