ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন রবার্তো কার্লোস
বিডি মেইল ডেস্ক
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সেই খবরে আরও জ্বালানি দিয়েছে তুরস্কের সরকারি দল একে পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিনের টুইট এবং গণমাধ্যমের সূত্র। তবে প্রথমবার মুখ খুলে কার্লোস ধর্মান্তরিত হওয়ার খবরটি ‘মিথ্যা’ বলে জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং (তাদের রীতি মেনে) আমার স্ত্রীকে প্রার্থনা করতে দেখাটা সত্যিই চমৎকার। তবে আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়।’
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কান নাগরিক সুহাইলা এল তাহিরিকে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই ডিফেন্ডার বিয়ে করেছেন বলে আরেকটি খবর বেরোয়। তাহিরি ফিফার লাইসেন্সধারী খেলোয়াড় এজেন্ট এবং ফুটবলারদের পেশাগত ক্যারিয়ার ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। কার্লোস ও তার শুরুতে পেশাগত সম্পর্ক থাকলেও, পরবর্তী সময়ে তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে রূপ নেয় বলে খবর গণমাধ্যমের।
ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানালেও মরক্কান মুসলিম তাহিরিকে বিয়ের কথা নিশ্চিত করেছেন রবার্তো কার্লোস। যার যার ধর্মীয় রীতি মেনে সেটি সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি একাধিক পদ্ধতিতে আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, পাশাপাশি আমার স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের জন্য উপযুক্ত আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেও আমরা আগ্রহী ছিলাম।’
এর আগে কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের দাবি ছড়িয়ে পড়ে তুরস্কের একে পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিনের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টকে কেন্দ্র করে। নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বসবাসরত এবং ইসলামি বিশ্বের অন্যতম ৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত শেখ জিহাদ হাম্মাদেহ’র (হামাদা) সঙ্গে আমরা ‘ব্রাজিলিয়ান ইসলামিক ফিলানথ্রপিক ইয়ুথ ইউনিয়ন’-এ সাক্ষাৎ করেছি। শেখ জিহাদ সুখবর জানিয়েছেন, ব্রাজিলীয় ফুটবলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং চার সপ্তাহ আগে দেখা করে ‘শাহাদাহ’ পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
এ ছাড়া গত ১৭ আগস্ট কার্লোস-তাহিরির বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিয়েটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। জানুয়ারিতেই তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ্যে আসে। পরে ২৫ জুলাই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সীমিত পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। গণমাধ্যমের দাবি– তাদের সম্পর্কের শুরুটা ছিল ব্রাজিল ও ইউরোপের মধ্যে খেলোয়াড়দের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার সময়।
