শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি অন্যায়: অপ্রতিমের মা

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এই কুমিল্লাতে চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’

একমাত্র ছেলে অপ্রতিমকে (১৩) হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমাইপাহাড় থেকে মরদেহ উদ্ধারে পর সদর দক্ষিণ উপজেলার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় এ দৃশ্য দেখা যায়।

এ সময় ড. নাহিদ বেগমদের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তাকে দেখে পরিবারের সদস্যের আহাজারি আরো বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের বাবা এ কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

এ সময় এমপিকে উদ্দেশ করে অপ্রতিমের বাবাকে বলতে শোনা যায়, আইফোনটার জন্য তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল?
এর পর তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নামাজ পড়ে বাসায় এসে আমার হাতে ভাত খেয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। রাত ৯টার পরও বাসায় না ফেরায় আমরা তাকে খুঁজতে থাকি।

সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তোমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো আমার ভাষা নেই, ক্ষমা চাইছি। আল্লাহ তোমাকে সান্ত্বনা দান করুক।

পরে তিনি অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তার স্ত্রীকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ধারণা আইফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হতে পারে।

আরো