শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্ক বার্তা

সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এসবিএ রিসার্চের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল হোয়াটসঅ্যাপের গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপের একটি সিস্টেমিক ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে ৩৫০ কোটি ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার ও প্রোফাইল ছবি ফাঁস হয়ে গেছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের ওয়েব ইন্টারফেস ব্যবহার করে তারা প্রতি ঘণ্টায় কয়েক কোটি ফোন নাম্বার সংগ্রহে সক্ষম হয়েছিলেন এবং প্রায় ৫৭ শতাংশ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা গেছে। প্রোফাইল ছবি ছাড়াও ২৯ শতাংশ ব্যবহারকারীর চ্যাট তথ্যও পাওয়া গেছে। যদিও মেটা দাবি করেছে, ব্যক্তিগত বার্তাসমূহের বিষয়বস্তু নিরাপদ থাকার জন্য এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তবুও মেটাডেটার মাধ্যমে গোপনীয়তার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গেগেনহুবার বলেন, অনেক বড় পরিমাণ অনুরোধ স্বাভাবিক নয়, এই অস্বাভাবিক আচরণেই ত্রুটি উঠে এসেছে। গবেষক আলইওশা ইউডমায়ার আরও জানান, মেটাডেটার বিশ্লেষণে গোপনীয়তার ঝুঁকি আছে, যা আমাদের গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে।

মেটার পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, তাদের সিস্টেমে বাগ ছিল এবং সেটি এখনো ঠিক করা হয়েছে। মেটার হোয়াটসঅ্যাপ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহসভাপতি নীতীন গুপ্ত জানান, বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামের আওতায় গবেষকদের সহযোগিতায় ত্রুটি চিহ্নিত এবং অ্যান্টি-স্ক্র্যাপিং ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বার্তা সুরক্ষিত রয়েছে।

তবে মেটা বলেছে, সব ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার ও প্রোফাইল ছবি মূলত সীমিত সংখ্যক মানুষের কাছে থাকে, তাই ‘ফাঁস’ শব্দটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং অজানা বা সন্দেহজনক উৎস থেকে আসা বার্তা এড়ানোর গুরুত্বও জোর দিয়েছেন।

সতর্কতা:
.হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয় শেয়ার করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

.সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অনুরোধ এড়িয়ে চলুন।

.প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা সেটিংস পর্যালোচনা করুন।

.নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করে রাখুন যাতে নিরাপত্তা প্যাচ সময়মতো পাওয়া যায়।

আরো