‘৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ’: বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ন্যাশনাল ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, তার দুই ছেলে ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি অনুমোদন করেছে দুদক।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাংকের প্রচলিত বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের নামে ৬০০ কোটি টাকা ফান্ডেড এবং ৭৫০ কোটি টাকা নন-ফান্ডেডসহ মোট এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেন।
তিনি আরও জানান, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জামানত না থাকা, পারসোনাল ও করপোরেট গ্যারান্টির যথাযথ যাচাই না করা, চার্জ ক্রিয়েশনের নথি অসম্পূর্ণ রাখা, ফোর্টনাইট স্টক রিপোর্ট না থাকা, গ্রাহকের সক্ষমতা যাচাই না করা এবং পূর্বের লোন দায়-দেনা উপেক্ষা করার মত এরকম আরও গুরুতর অনিয়ম ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়।
দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রথম বছরেই ৩৯৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার নীট মুনাফা এবং পরবর্তী দুই বছরে ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও আট দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে মিথ্যা আর্থিক বিবরণী তৈরি করা হয়। গ্রাহকের অন্যান্য ব্যাংকে ৬২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার ঋণ থাকা সত্ত্বেও তা পর্যালোচনা করা হয়নি।
এ ছাড়া গ্রাহকের ক্রেডিট রেটিং না থাকা, কারখানা ও ব্যবসা পরিদর্শন প্রতিবেদন না থাকা, পূর্বের আমদানি-রপ্তানির তথ্য না থাকা এবং বসুন্ধরা গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট’ অতিক্রম করেও তা গোপন রেখে ঋণ অনুমোদন করা হয়। ব্যাংক-কোম্পানি আইন ১৯৯১, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের নিজস্ব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট নীতিমালাও লঙ্ঘন করা হয়।
দুদকের দাবি, ফান্ডেড ঋণের ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাৎ করা হয়। পরে এ টাকা সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখায় পরিচালিত ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের স্টাফ বেতন-ভাতা পরিশোধ, রংধনু বিল্ডার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, সমন্বয় ও উত্তোলনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এমডি সাদাত সোবহান ও পরিচালক সাফিয়াত সোবহান।
এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের সাত পরিচালক, মনোয়ারা শিকদার,পারভীন হক শিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন, রিক হক শিকদার, রন হক শিকদার, মো. আনোয়ার হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীমকে একই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের হিসেবে ব্যাংকের আরও অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসিনা সুলতানা ও মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিঠু, সিনিয়র ইভিপি ও ম্যানেজার আরিফ মো. শহিদুল হক, সিনিয়র এভিপি আনিসুল হক, সুলতানা পারভিন ও সুবল চন্দ্র রায়।