বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জনের মধ্যেই শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

প্রশ্নফাঁসের নানা গুঞ্জন ও আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন প্রায় ১১ লাখ চাকরিপ্রার্থী।

পরীক্ষাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ আরও বেড়েছে।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা এক দফা পেছানো এবং আগেই প্রশ্নপত্র জেলায় পাঠানোর সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, তবে প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে তা স্থগিত করা হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ছড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

চাকরিপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া। এবার মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা আয়োজনের কারণে অনেকের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনিক রদবদলের আগেই মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান। তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রশ্নপত্র আগেই জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো কঠোর নিরাপত্তায় সিলগালা অবস্থায় সংরক্ষিত আছে। সেখান থেকে প্রশ্ন বাইরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য একটি চক্রের পরিকল্পিত অপচেষ্টা। কেউ কেউ পরীক্ষা বানচাল করতে, আবার কেউ পরীক্ষার তারিখ পেছানোর উদ্দেশ্যে এসব গুজব ছড়াচ্ছে। তবে ৯ জানুয়ারি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসেবে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।

প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।

আরো