ভেজাল কসমেটিকস মিললেই প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও আইনি ব্যবস্থা: ভোক্তা অধিকার
বাজারে ভেজাল বা মানহীন কসমেটিকস পণ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে এবং নিয়মিত মামলা করা হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি) আয়োজিত এক যৌথ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল প্রসাধনী শুধু ভোক্তার ক্ষতিই করে না, এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুতর হুমকি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তিনি জানান, নিম্নমানের কসমেটিকস ব্যবহারের ফলে ত্বকের নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও পুরোপুরি সেরে ওঠে না। বিশেষ করে গার্মেন্টসকর্মী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ এসব পণ্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সচেতনতা তৈরি ও ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের ব্যবসাবান্ধব হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্র জরিমানা আদায়কে সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
কসমেটিকস শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের পরামর্শও দেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে ভেজাল কসমেটিকসের বিস্তার রোধে বিদ্যমান আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন নীতিমালার আগে আইনের বাস্তবায়নে জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন সুইট, অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক, বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক মো. আলাউদ্দিন হুসাইনসহ কসমেটিকস খাতের বিভিন্ন অংশীজন। বক্তারা সবাই মিলে কসমেটিকস শিল্পের জন্য একটি কার্যকর, সমন্বিত ও বাস্তবমুখী নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন