বাংলাদেশি ত্বক ও আবহাওয়ায় বিজ্ঞানসম্মত স্কিনকেয়ার—স্কিন ক্যাফের অনন্য উদ্ভাবন
বাংলাদেশের ত্বক, আবহাওয়া ও জীবনযাত্রার বাস্তবতা মাথায় রেখে বিজ্ঞানসম্মত স্কিনকেয়ার ফর্মুলা তৈরি করে দেশে নতুন মানদণ্ড গড়ে তুলছে স্থানীয় ব্র্যান্ড স্কিন ক্যাফে। পশ্চিমা দেশের শুষ্ক আবহাওয়া ও হালকা রোদ বিবেচনায় বানানো বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক স্কিনকেয়ার পণ্য বাংলাদেশের গরম, আদ্রতা, দূষণ ও ঘামের বাস্তবতায় তেমন কার্যকর না হলেও, স্কিন ক্যাফে তৈরি করেছে একেবারে স্থানীয় ত্বকের সমস্যা বুঝে তৈরি সমাধান।
বাংলাদেশের মেলানিনসমৃদ্ধ ত্বক সহজেই রোদে পুড়ে, দাগ হয় গভীর—ফলে আমাদের প্রয়োজন হালকা, নন-স্টিকি, দূষণ-রোধী ও তীব্র রোদে টিকে থাকা স্কিনকেয়ার। এ প্রয়োজন থেকেই ফার্মাসিস্টদের গবেষণা-নির্ভর উদ্যোগে জন্ম নেয় স্কিন ক্যাফে।
স্কিন ক্যাফের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ফার্মাসিস্ট সিনথিয়া ইসলাম কাজ করছেন আন্তর্জাতিক গবেষণায় অভিজ্ঞ প্রফেসর ড. আবু জাফর মোহাম্মদ রুহুল মোমেন–এর সঙ্গে। তারা বিদেশি ফর্মুলা অনুকরণ না করে বাংলাদেশের আবহাওয়া, ত্বকের প্রকৃতি ও দূষণের মাত্রা বিবেচনায় প্রতিটি ফর্মুলা তৈরি করেন।
তাদের তৈরি সানস্ক্রিন ঢাকার তাপ ও ঘামে স্থায়ী সুরক্ষা দেয়, ব্রাইটেনিং সিরাম দূষণে হওয়া দাগ ও পিগমেন্টেশন কমাতে কাজ করে কঠোর ব্লিচিং ছাড়া, আর নন-স্টিকি ময়েশ্চারাইজার লোমকূপ বন্ধ না করে ত্বককে রাখে হালকা ও হাইড্রেটেড। প্রতিটি পণ্যই পার করে মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষা, থার্ড-পার্টি ইফিকেসি টেস্ট এবং বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকরণে তৈরি ল্যাব সিমুলেশন।
সিনথিয়া বলেন,“আমরা ফার্মাসিস্ট—কিন্তু এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা বাংলাদেশি। তাই এমন স্কিনকেয়ার তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যা সত্যিই কাজ করবে এই দেশের ত্বকে এবং এই আবহাওয়ায়।”
দেশের বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি সানস্ক্রিন উপহার দিয়ে স্কিন ক্যাফে প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্থানীয় ব্র্যান্ডও হতে পারে নির্ভরযোগ্য বিকল্প। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার অগ্রগতিও নতুন মাত্রা পাচ্ছে।