সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিক অধিকার অন্তর্ভুক্তির দাবি

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাষ্ট্রগঠনের লড়াইয়ে শ্রমজীবী মানুষের রক্ত ও ঘামে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল আজও তাদের ঘরে পুরোপুরি পৌঁছায়নি—এমন বাস্তবতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিক অধিকার অন্তর্ভুক্তির জোরালো দাবি উঠেছে জাতীয় অংশীজন কনভেনশন থেকে।

জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসমূহ ও শ্রম–মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স এদিন একটি সমন্বিত শ্রমিক ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করে। ইশতেহারে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম আইন কার্যকর করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

*কনভেনশনে বক্তারা বলেন,* ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, ১৯৯০ থেকে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে শ্রমিকরা সামনে থেকেছেন।

কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক এখনো ন্যূনতম সুরক্ষা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এই বৈষম্য দূর করা কেবল সামাজিক দায় নয়, এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরীক্ষা।

*শ্রমিক ইশতেহারের মূল দাবি*
শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স প্রণীত শ্রমিক ইশতেহারে রয়েছে—
বাস্তবভিত্তিক ও জীবনযাপন উপযোগী ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ
সব খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও দরকষাকষির পূর্ণ স্বাধীনতা
শ্রম আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দ্রুত বিচার
সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবিমা ও পেনশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ,
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন,
*শ্রমিক অধিকার ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি শ্রমিক প্রশ্ন এড়িয়ে যায়, তবে উন্নয়ন টেকসই হবে না।*
সভাপতিত্ব করেন মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। ইশতেহার উপস্থাপন করেন সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়ন ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

*রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া*
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অবদান রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলিত না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। একই সঙ্গে নজরুল ইসলাম খান শ্রমিক ইস্যুকে নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

*রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,* এই শ্রমিক ইশতেহার নির্বাচনী রাজনীতিতে শ্রমিক প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। দলগুলো যদি এই দাবিগুলোকে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা কোটি শ্রমজীবী মানুষের ভোট–মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

*জাতীয় অংশীজন কনভেনশন স্পষ্ট করে দিয়েছে*—শ্রমিক অধিকার আর প্রান্তিক কোনো বিষয় নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চায়, তবে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি ইশতেহারে নয়, বাস্তব নীতিতে রূপ দেওয়াই হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

আরো