শেরপুরের সহিংসতা অনভিপ্রেত, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি বিএনপির
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এ ঘটনায় কীভাবে সংঘাতের সূত্রপাত হলো এবং কারা দায়ী—তা দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত আসন থাকলেও একটি দল আগেভাগেই সব চেয়ার দখল করে রাখে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্ধারিত স্থানে বসতে বাধা দেয়। প্রশাসনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা চেয়ার ছাড়েনি। চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল। অথচ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে জনগণের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে—এ বিশ্বাস দলটির রয়েছে। সে কারণেই নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো সহিংসতা বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, সেটিই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু শেরপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং এতে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কারা উসকানি দিয়েছে, কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি।
মাহদী আমিন দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও একটি নির্দিষ্ট পথে না যেতে অনুরোধ করেছিলেন। এরপরও তিনি সেই দিকেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ‘জান যায় যাক’—এ ধরনের বক্তব্য দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
তিনি বলেন, এই সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন—তিনি যে দলেরই হোন না কেন, কোনো প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহত সবাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশাই করেছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও দৃঢ় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে উসকানি থেকে বিরত থাকা এবং সংযম বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে—এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণই এখন জনগণের প্রত্যাশা।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল ও বিএনপিকে ঘিরে অপপ্রচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি দোষারোপের রাজনীতিতে নয়, ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবুও উপস্থিত ছিলেন।