বাংলাদেশদূতাবাস, বেইজিং-এযথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
আলী আহসান রবি
বাংলাদেশ দূতাবাস, বেইজিং-এ আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং চীনা অতিথিবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকালে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুলইসলাম দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরেন এবং অস্থায়ী শহিদমিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বিকেলে দ্বিতীয় ভাগের অনুষ্ঠান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। অতঃপর, ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ বেঙ্গল স্টাডিজ-এর সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ-এর বাংলা বিভাগের পরিচালক মিজ ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন। তারা তাদের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও বিকাশ বিষয়ে আলোকপাত করেন। উল্লেখ্য, উক্ত অতিথিবৃন্দ চীনে বাংলা ভাষার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন।
রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ভাষা আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেয়। তিনি মাতৃভাষার মর্যাদা ও সম্মানকে সমুন্নত রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মিলিতভাবে কাজকরার আহ্বান জানান।
অতঃপর, ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতকরা হয়।
পরিশেষে, ইফতার আয়োজন ও আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।