বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের আহ্বান

মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ও নির্ভরশীল। তাই মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুল ও পরিবেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট)-এর উদ্যোগে “স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানে একত্রিত হই” শীর্ষক এক ভার্চুয়াল টকশোতে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সব প্রাণ’ (Together for Health, Stand with Science)।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. নাজের হোসাইন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর পরিচালক গাউস পিয়ারী এবং চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি অভূতপূর্ব হলেও তা কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন রোগের বিস্তার বাড়ছে, পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ভুল চিকিৎসা ও অবৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রচারণা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ফলে অনেকেই ভুল চিকিৎসা গ্রহণ করে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও জনগণের সমন্বিতভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক তথ্য প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

তারা আরও বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, অর্থনৈতিক চাপ, দক্ষ জনবল ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। যদিও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে এখন ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরামর্শ পাওয়া সম্ভব, তবুও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়নি।

বক্তারা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়; অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো, মাঠ-পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণ, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, নিরাপদ খাদ্য ও সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণ, দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও প্রস্তাব করা হয়।

আরো