শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

ভার্গো টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩৬৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

উৎপাদন ও বিক্রির তথ্য গোপন করে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড। অপ্রদর্শিত তামাক ব্যবহারসহ নানা কৌশলে সিগারেট বিক্রি করত প্রতিষ্ঠানটি। অনিয়মের মাধ্যমে মাত্র ৭ মাসে ৩৬৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ভার্গো টোব্যাকো, যা ধরা পড়েছে এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দাদের জালে।

গাজীপুরের কাউলতিয়ায় অবস্থিত সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্গো টোব্যাকো। কোম্পানিটি মাসে ৩০ কোটি শলাকা সিগারেট উৎপাদনে সক্ষম। এর মধ্যে ১০ কোটি রপ্তানির জন্য এবং ২০ কোটি স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য উৎপাদন করে থাকে।

সামর্থ্য থাকলেও ব্যবসার শুরু থেকেই কোম্পানিটি নানা কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি দিত। এনবিআরের তথ্য বলছে, সরকারকে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ভ্যাট দিলেও বিপরীতে ফাঁকি দিত মাসে অন্তত ১২ কোটি টাকা। এজন্য বিক্রির তথ্য গোপন দলিলে সংরক্ষণ ও জাল ব্যান্ডরোল তৈরিসহ নানা কৌশল নিত কোম্পানিটি। বিষয়টি টের পেয়ে ২০২১ সালের মে মাসে ভ্যাট গোয়েন্দারা কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন। ফাঁকি ধরা পড়ায় সে সময় মামলাও হয়।

২০২৫ সালে কোম্পানিটির হঠাৎ ভ্যাট জমা কমে গেলে আবারও সন্দেহ হয় এনবিআরের। পরে ভার্গো টোব্যাকোর কারখানা ও বারিধারার অফিসে অভিযান চালানো হয়। বারিধারা মূল অফিসের কাছাকাছি আরেকটি অফিস থেকে বিভিন্ন দলিল উদ্ধার করা হয়। যেখানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ১১ লাখ কেজির বেশি তামাক কেনার তথ্য গোপন করেছে। এই কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ১১২ কোটি ৩২ লাখ শলাকা সিগারেট উৎপাদন সম্ভব। এতে সম্ভাব্য সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি ২৯৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং সম্ভাব্য ভ্যাট ফাঁকি ৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। সুদ ছাড়াই নিট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বেশি।

গত বছর এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর (ADR) কমিটি।

ঢাকা উত্তরের ভ্যাট কমিশনার মো. সামছুল ইসলাম বলেন, ‘এটা নিষ্পন্ন হবে এখন গাজীপুরে। আমরা সেখানেই মামলার সব কাগজপত্র পাঠিয়েছি। তারা এ বিষয়ে অবগত আছেন।’

তবে ভার্গো টোব্যাকোর বিরু‌দ্ধে তথ্য গোপন ক‌রে উৎপাদন ও বি‌ক্রিয়ের যে অ‌ভি‌যোগ ছিল তা প্র‌তিষ্ঠান‌টির ডিএমডি অমল হালদার অস্বীকার ক‌রেন। এছাড়া তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে চেক করার জন্য পাঠিয়েছিল। রিপোর্ট পজিটিভ ছিল। ভ্যাট কমিশনারকেও নথি দেওয়া হয়, পরে কমিশনার পরিবর্তন হয়েছে। দেখলাম যে দেরি হচ্ছে, এজন্য আমরা এডিআর করে নিয়েছি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভ্যাটের পাশাপাশি আয়করসহ অন্যান্য ফাঁকি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘তছরুপের যে কালচার, এটা আমাদের সবচেয়ে বড় ক্যানসার। এটাকে প্রতিহত করতে হবে।’

এনবিআরের ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্গো টোব্যাকো ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি আইনও লঙ্ঘন করেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভার্গো টোব্যাকো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো