রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

জাম আলু: স্বাদে ভিন্ন, পুষ্টিতেও উপকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নাম শুনে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন, জাম আলু আবার কী? গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া গেলেও শহরাঞ্চলের অনেকের কাছেই এটি এখনও অপরিচিত। দেখতে আলুর মতো হলেও জাম আলুর স্বাদ ও গঠন কিছুটা ভিন্ন। মৌসুমি এই সবজি দিয়ে ভর্তা, ভাজি, তরকারিসহ তৈরি করা যায় নানা পদ।

জাম আলু সাধারণত সেদ্ধ করে ভর্তা, মসলা দিয়ে ভাজি কিংবা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা হয়। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, সরিষার তেল ও সামান্য লবণ দিয়ে তৈরি জাম আলুর ভর্তা বেশ মুখরোচক। আবার মসলা দিয়ে ভাজা হলে এটি ভাতের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে যায়।

পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

জাম আলুতে কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে।

এতে থাকা পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আলুজাতীয় সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণেও সহায়তা করে।

তবে জাম আলুর নির্দিষ্ট পুষ্টিগুণ জাত ও চাষপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তাই এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা বিশেষ রোগ প্রতিরোধের খাবার হিসেবে বিবেচনা না করে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়াই ভালো।

রান্নায় বৈচিত্র্য

জাম আলু দিয়ে ভর্তা, ভাজি, ঝোল, ডাল ও মাছের সঙ্গে তরকারি তৈরি করা যায়। অনেকে সেদ্ধ করে সরিষার তেল, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ দিয়ে মেখে নেন। আবার পাতলা করে কেটে মসলা দিয়ে ভেজে নিলেও তৈরি হয় সুস্বাদু পদ।

দেশীয় ও মৌসুমি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় জাম আলুর মতো অপেক্ষাকৃত অপরিচিত সবজিও ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছে। স্বাদে ভিন্নতা ও রান্নায় বৈচিত্র্যের কারণে এটি হতে পারে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় একটি নতুন সংযোজন।

আরো