বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করতে এইচএসবিসির উদ্যোগে ‘Cotton Ecosystem’ রাউন্ডটেবিল আয়োজন

বি‌ডি মেইল ডেস্ক

দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে “Cotton Ecosystem: Strengthening Bangladesh’s Apparel Value Chain” শীর্ষক রাউন্ডটেবিল আলোচনা আয়োজন করেছে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কটন সরবরাহকারী ও কো-অপারেটিভ প্রতিনিধিরা, বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড, দেশের শীর্ষ পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, বিডার সিনিয়র কর্মকর্তা, লজিস্টিক পার্টনার এবং ট্রেড বডি যেমন—বিজিএমইএ ও বিটিএমএ। এছাড়া কটন কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (CCI)–এর সিনিয়র প্রতিনিধিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কটন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান—লুই ড্রেফাস কোম্পানি, ওলাম কটন, কারগিল কটন, ইকম ইউএসএ, স্ট্যাপলকটন এবং কটন গ্রোয়ার্স কো-অপারেটিভ—আলোচনায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা কটন বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধারা ও সাপ্লাই চেইনের স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

গ্লোবাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কটন বাজার–সংক্রান্ত উপস্থাপনা প্রদান করেন ওয়েইন বোসম্যান (Cotton Growers Cooperative) এবং ক্রিস্টা রিকম্যান (Cargill Cotton)।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,
“আমাদের পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কটন সোর্সিং ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বিজিএমইএ। বিশেষ করে, ইউএস কটন কনটেন্ট প্রভিশনের সুবিধা সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এমন তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের জন্য এইচএসবিসিকে ধন্যবাদ।”

কারগিল কটনের সিনিয়র ডিরেক্টর (Sustainability & Brand Engagement) ক্রিস্টা রিকম্যান বলেন,
“এইচএসবিসি আয়োজিত আলোচনায় কটন ইউএসএ–এর প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য প্রশংসনীয় অভিজ্ঞতা। মিল, পোশাক প্রস্তুতকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ গ্লোবাল কটন বাজারের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো আরও স্পষ্ট করেছে।”

এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী মো. মাহবুব উর রহমান বলেন,
“বাংলাদেশের ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক শিল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বৈশ্বিক পণ্য—কটন। বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল ধরনে পুরো ভ্যালু চেইনের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই শিল্পনেতা, নীতিনির্ধারক ও গ্লোবাল বিশেষজ্ঞদের একত্রে এনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত।”

এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর হেড অব গ্লোবাল অ্যাপারেল সাপ্লাই চেইন, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, মো. আশফাকুর রহমান বলেন,
“পোশাক শিল্প এইচএসবিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেগমেন্ট। ৫০টিরও বেশি দেশে উপস্থিত থাকার কারণে আমরা কটন সরবরাহকারী, পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারী এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের এক প্লাটফর্মে যুক্ত করতে পারি। বাংলাদেশে আমাদের বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস দল এই শিল্পকে নিবিড়ভাবে সহায়তা করছে।”

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কটন আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কটন চাহিদা পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে আরও বাড়বে। এই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক ও স্থানীয় অংশীজনরা কাঁচামাল সংগ্রহে ট্রেসেবিলিটি, স্থিতিস্থাপকতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সংযোগ ও সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।

আরো