বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণ
দেশের সর্ববৃহৎ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পরিসমাপ্তি
দেশের ইতিহাসে স্কুল পর্যায়ে আয়োজিত সর্ববৃহৎ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার গৌরবময় পরিসমাপ্তি ঘটেছে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর নবরাত্রি হলে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রতিপাদ্য
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান—এই দুই ঐতিহাসিক অধ্যায়কে প্রতিপাদ্য করে আয়োজিত এই মেগা প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতাটির জন্য সারাদেশ থেকে ৯৭৮ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে, যা স্কুল পর্যায়ের কোনো শিল্প প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এক ক্যানভাসে দুই ইতিহাস
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এড ব্লকে অবস্থিত বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস ও ইনডোর স্টেডিয়ামে একযোগে বসে ছবি আঁকে ক্ষুদে শিল্পীরা।
একই ক্যানভাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রতিবাদী চেতনাকে রঙ-তুলিতে তুলে ধরার এই প্রয়াস দেশের শিল্পচর্চার ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক মানের জুরি বোর্ড
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক মানের জুরি বোর্ড অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৪৩ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করে।
জুরি বোর্ডে ছিলেন—
লোকজ শিল্পের রূপকার আব্দুস শাকুর শাহ,
একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ও অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান,
একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন,
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষসহ দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা।
অতিথিদের উপস্থিতি ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ড প্রধান ও স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট লেখক ইমদাদুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসা সুবহান।
বক্তারা বলেন, এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি শিল্প আয়োজন নয়; এটি ইতিহাস, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধকে আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস।
তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা
প্রতিযোগিতাটি তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়—
প্রথম ক্যাটাগরি: তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি
দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি
তৃতীয় ক্যাটাগরি: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা
এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৩০ লাখ টাকার ১৪৩টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও সম্মাননাসূচক সনদ।
অধ্যক্ষের বক্তব্য
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিসুর রহমান বলেন,
“এ আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি আমাদের জাতির গৌরবগাথা ইতিহাসকে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের শিল্পচেতনায় জাগ্রত করার এক বিশেষ প্রয়াস।”
তিনি বলেন, “৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার মহাকাব্য এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দ্রোহের আগুন—এই দুই সংগ্রামের ইতিহাসকে এক ক্যানভাসে তুলে ধরতে ক্ষুদে শিল্পীদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনা নিঃসন্দেহে গৌরবের।”
পুরস্কার বিতরণ পেছানোর কারণ
তিনি আরও জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে দিতে হয়। অবশেষে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ উৎসবমুখর ও ঝাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া সম্ভব হয়।
শিল্প, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুধু একটি আয়োজন নয়—এটি শিল্পের মাধ্যমে ইতিহাসকে ধারণ করা, দেশপ্রেমকে জাগ্রত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
দেশের শিক্ষা ও শিল্পাঙ্গনে এই আয়োজন দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।