রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো’র মুনাফায় বড় ধস, আয় কমেছে ৬৭ শতাংশ

দেশের শীর্ষ করদাতা ও পুঁজিবাজারের অন্যতম শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) ২০২৫ অর্থবছরে তীব্র ব্যবসায়িক চাপে পড়েছে। বিক্রয় হ্রাস, মূল্যস্ফীতির চাপ, করের বোঝা বৃদ্ধি এবং কারখানা স্থানান্তরের অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মিলিত প্রভাবে কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রায় ৬৭ শতাংশ কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে যেখানে ইপিএস ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা, সেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ টাকা ৮১ পয়সায়। এই বড় পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে লভ্যাংশ ঘোষণায়ও। ২০২৪ সালে ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও ২০২৫ সালে তা কমিয়ে মাত্র ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বছরজুড়ে আয় ছিল ধারাবাহিক নিম্নমুখী। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইপিএস দাঁড়ায় ৫ টাকা ৮৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৬৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়—৯ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ইপিএস নেমে আসে মাত্র ১ টাকা ৮০ পয়সায়। তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পতনের ধারা অব্যাহত থাকে; ইপিএস দাঁড়ায় ৫ টাকা ৬৫ পয়সা, যা আগের বছরের ৭ টাকা ৩৫ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বছর শেষে সার্বিক ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সায়, যা কোম্পানিটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল আর্থিক পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে মুনাফা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে। বছরের শুরু থেকেই পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রির পরিমাণ কমে যায়। পাশাপাশি কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুনাফার মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকার কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে সাভারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, যা কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় বড় চাপ তৈরি করেছে। এই স্থানান্তর ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় এককালীন প্রায় ৭১৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে, যা পরিচালন মুনাফাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে, বর্ধিত হারে আবগারি কর পরিশোধের চাপ কোম্পানির নগদ প্রবাহ ও নিট আয় উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ অর্থবছরটি বিএটিবিসির জন্য এক কঠিন ও হতাশাজনক বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে।

আরো