বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

সৌদি আরব কর্তৃক গৃহীত হজ বিধিমালা মেনে চলার জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আহ্বান

আলী আহসান রবি

সৌদি আরব সরকার অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং হাজীদের নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য কঠোর শাস্তিসহ হজ বিধিমালা কঠোর করেছে। কর্তৃপক্ষ অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালন না করার জন্য সতর্ক করেছে। বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার নাগরিকদের সৌদি আরব কর্তৃক গৃহীত হজ বিধিমালা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

১৪৪৭ হিজরির হজের আগে সৌদি আরব সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের চেষ্টাকারী বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান চালু করেছে, যা একটি কঠোর নিয়ন্ত্রক পদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়। বিদেশি বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে, এই নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে নির্বাসন এবং ১০ বছর পর্যন্ত রাজ্যে পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিও হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালন বা হজ পালনের চেষ্টা করার সময় ধরা পড়লে ২০,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এই কঠোর ব্যবস্থা শুধু অননুমোদিত তীর্থযাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যারা এই ধরনের লঙ্ঘনে সহায়তা করে, তাদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। অবৈধ তীর্থযাত্রীদের পরিবহন, আশ্রয় প্রদান বা সহায়তা করার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে, তাদের ১,০০,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অপরাধীর সংখ্যার উপর নির্ভর করে শাস্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই নিয়ম ট্রাভেল এজেন্সি, আবাসন প্রদানকারী, যানবাহনের মালিক এবং এমনকি লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়দানকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এও সতর্ক করেছে যে, আইনি প্রক্রিয়ার পর এই ধরনের কার্যকলাপে ব্যবহৃত যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হজ পারমিটধারীরাই মক্কা এবং অন্যান্য নির্ধারিত পবিত্র স্থানগুলিতে প্রবেশ করতে পারবেন। এই নিয়মটি সৌদি আরবের বাসিন্দাসহ সকল তীর্থযাত্রীর জন্য প্রযোজ্য। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা জিলহজ মাসের প্রথম দিন থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়কালে, বৈধ হজ অনুমোদনপত্র না থাকলে ভিজিট ভিসাধারী ব্যক্তিদের মক্কায় প্রবেশ বা অবস্থান করা নিষিদ্ধ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক, বাসিন্দা এবং সকল ভিসাধারীদের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়টি জনসাধারণকে নির্ধারিত জরুরি নম্বর, যেমন—প্রধান অঞ্চলগুলোতে ৯১১ এবং অন্যান্য স্থানে ৯৯৯-এর মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে জানানোর জন্য উৎসাহিত করেছে। আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই চলছে এবং কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাল হজ পারমিট প্রচারের অভিযোগে মক্কায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরো