রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর তামাক আইন লঙ্ঘন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রচারণা আইনত নিষিদ্ধ হলেও, চট্টগ্রাম নগরীতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি British American Tobacco–এর ‘ডার্বি’ ব্র্যান্ডের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নগরীর বিভিন্ন সড়ক, মোড় এবং দোকানের সামনে ব্র্যান্ড প্রমোটরদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্যটির পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিপন্থী হতে পারে।

সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কিছু তরুণ ব্র্যান্ড প্রমোশনের কাজে নিয়োজিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং দোকানের সামনে ডার্বি ব্র্যান্ডকে দৃশ্যমানভাবে উপস্থাপন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রম সরাসরি বিজ্ঞাপন না হলেও এটি ‘ব্র্যান্ড প্রমোশন’ বা পরোক্ষ প্রচারণার আওতায় পড়ে, যার মূল উদ্দেশ্য ভোক্তাদের কাছে পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশের বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, তামাকজাত পণ্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ। Smoking and Tobacco Products Usage (Control) Act–এর অধীনে তামাকপণ্যের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যেকোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম—সরাসরি বা পরোক্ষভাবে—আইনের আওতায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্র্যান্ড অ্যাক্টিভেশন, প্রদর্শনী বা প্রমোটর ব্যবহার করে ব্র্যান্ড দৃশ্যমানতা বাড়ানোর উদ্যোগও আইনের ব্যাখ্যার আলোকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখো মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের কারণে। হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, স্ট্রোক, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এবং নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে তামাককে দায়ী করা হয়। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসারে বাংলাদেশ তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যাতে বিশেষ করে তরুণদের তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা যায়।

তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেক কোম্পানি বিকল্প উপায়ে ‘ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি’ বাড়ানোর চেষ্টা করে থাকে। দোকানভিত্তিক উপস্থিতি, ব্র্যান্ড প্রমোটর কিংবা অনানুষ্ঠানিক ইভেন্টের মাধ্যমে ভোক্তাদের আকৃষ্ট করার প্রবণতা নতুন নয়। তবে এসব কার্যক্রম আইনসম্মত কিনা, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং যেকোনো অভিযোগ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

আরো