সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ

মাছে-ভাতে বাঙালি, বর্ষায় মাছ খাওয়ার আগে সাবধান!

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই প্রবাদ যেন বাঙালির খাবারের অভ্যাসের সঙ্গেই মিশে আছে। দুপুরের ভাতের সঙ্গে এক টুকরো মাছ, কিংবা মাছের ঝোল—বাঙালির রসনায় এর জুড়ি মেলা ভার। মাছ শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে বর্ষাকালে মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে একটু বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বর্ষায় অতিবৃষ্টির কারণে পুকুর, খাল-বিল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ের পানিতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে দূষিত জলাশয় বা শিল্পাঞ্চলের আশপাশের পানিতে মাছ চাষ হলে মাছের শরীরেও কিছু ক্ষতিকর উপাদান জমার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময়ে মাছের ধরন নয়, মাছটি কোথা থেকে এসেছে এবং কতটা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে—সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

কোন মাছের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

বড় শিকারি মাছ নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। ভেটকি, হাঙরজাতীয় বড় মাছসহ কিছু মাছ দীর্ঘদিন ধরে জলজ পরিবেশ থেকে বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করে। ফলে নির্দিষ্ট পরিবেশে এসব মাছে পারদের মতো ভারী ধাতু জমার আশঙ্কা থাকতে পারে।

অন্যদিকে, দূষিত বা অপরিচ্ছন্ন ছোট জলাশয়ে চাষ করা মাছের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। পাঙ্গাশ, মাগুর, বোয়াল কিংবা শোলের মতো মাছ কেনার সময় তাই মাছের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব মাছ খেলেই অসুস্থ হয়ে পড়তে হবে বা বর্ষায় এগুলো একেবারেই খাওয়া যাবে না। মূল বিষয় হলো—মাছটি নিরাপদ উৎস থেকে এসেছে কি না।

মাছ কেনার সময় কী দেখবেন?

মাছ কেনার সময় প্রথমেই তার সতেজতা যাচাই করুন। তাজা মাছের চোখ সাধারণত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ থাকে। ফুলকো থাকে টাটকা ও লালচে। মাছের শরীরে অস্বাভাবিক বা পচা গন্ধ থাকলে তা না কেনাই ভালো।

মাছের শরীর অতিরিক্ত নরম হয়ে গেছে কি না, চামড়া স্বাভাবিক আছে কি না—সেটিও খেয়াল করুন। বাজারে বরফে রাখা মাছ হলে বরফ ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রোজেন মাছ কিনলে?

ফ্রোজেন মাছ মানেই ক্ষতিকর—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে প্যাকেটজাত মাছ কেনার সময় প্যাকেট অক্ষত কি না, মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না এবং যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া মাছ বাড়িতে আনার পর দ্রুত পরিষ্কার করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে কি বর্ষায় মাছ খাবেন না?

একেবারেই নয়। মাছ পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা মাছ বর্ষাতেও খাওয়া যায়। বরং এ সময়ে মাছের উৎস, সতেজতা এবং সংরক্ষণের বিষয়ে একটু বেশি সচেতন হওয়াই মূল কথা।

বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে দূষিত জলাশয়ের খবর থাকলে সেখানকার মাছ এড়িয়ে চলা ভালো। আর মাছ খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা বা জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তাই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ থাকুন, মাছের স্বাদও উপভোগ করুন—শুধু বর্ষায় বাজার থেকে মাছ কেনার সময় উৎস, সতেজতা ও সংরক্ষণ, এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখুন।

আরো