শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ

সোশ্যাল মিডিয়াকে ডাস্টবিন মনে হয় : জয়া আহসান

দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করা অভিনেত্রী জয়া আহসান। চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাওয়া তার নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। ছবিটিতে একজন চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার মূল প্রেক্ষাপট অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (OCD) এবং শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর সামাজিক বাস্তবতা।

পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের সঙ্গে এটি জয়ার তৃতীয় কাজ। সম্প্রতি ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির গল্প, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সমসাময়িক বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। জয়া আক্ষেপ করে জানান, বাংলা সিনেমায় আগে এ ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে খুব একটা তুলে ধরা হয়নি।

শিশু যৌন নির্যাতনের প্রসঙ্গে জয়া বলেন, শিশুদের মাধ্যমে যৌন তৃপ্তি খোঁজা এক ধরনের মানসিক বিকার, যার প্রভাব মানুষের শৈশব থেকে শুরু করে সারাজীবন বহন করতে হয়। এ বিষয়ে সমাজকে আরও সচেতন হওয়া জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে উঠে আসে দুই বাংলার চলচ্চিত্র শিল্প ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও। জয়া আহসানের মতে, শিল্প কখনো বিভাজনের সৃষ্টি করে না, বরং মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। তার ভাষায়, একজন শিল্পী যদি নিজের শিল্পে আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের আশ্রয় নিতে হয় না।

তিনি বলেন, “আমি বাংলা সিনেমার জন্য কাজ করি—শুধু বাংলাদেশের বা শুধু পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের জন্য নয়। পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি আছে, সবার কাছে পৌঁছাতে চাই একজন বাঙালি শিল্পী হিসেবে।”

দুই দেশের কিছু মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিদ্বেষকে সাময়িক বলেই মনে করেন এই অভিনেত্রী। ভার্চুয়াল জগতের নেতিবাচক আচরণকে বাস্তব জীবনের প্রতিফলন হিসেবে দেখেন না তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জয়া বলেন, “গুটিকয়েক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়ায়। আমার কাছে তো সোশ্যাল মিডিয়াকে ডাস্টবিনই মনে হয়। বাস্তবে আমি যে ভালোবাসা পাই, সিনেমা হলে বা দর্শকদের কাছ থেকে যে সম্মান পাই—সেগুলোই আসল।”

সবশেষে জয়া আহসান জানান, এসব সাময়িক বিদ্বেষ তার কাজ বা মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। শিল্পী হিসেবে তিনি সব সময় সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের জন্য কাজ করে যেতে চান।

আরো