‘কাকের’ প্রেমে পড়েছেন ভাবনা
কখনো তার অভিনয়, কখনো বা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা শিল্পকর্ম সবখানেই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। কাকের প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখানোর কারণে নেটিজেনরা তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা চর্চা হলেও ভাবনা নিজের অবস্থানে অনড়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অভিজ্ঞতা এবং কাক প্রীতি নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নিজের অভিনীত সিনেমা ‘পায়ল’ (আর্কটিক বিভাগ) নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ভাবনা। বিদেশের মাটিতে লাল গালিচায় নিজের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন দেশীয় বেনারসি। তবে পোশাকের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে তার কাক প্রীতি।
ভাবনা বলেন, ‘ভালোবাসার উৎপত্তি তো আসলে বলে বোঝানো যায় না। আমি পৃথিবীর সব কাককে ভালোবাসি। আমাদের ঢাকা শহরে তো টিয়া বা অন্য পাখি অহরহ দেখা যায় না। আমি পুরান ঢাকায় বড় হয়েছি, সেখানে প্রথম যে পাখিটি দেখেছি, সেটি ছিল কাক। আর প্রথম দেখা সেই পাখির প্রেমেই আমি পড়ে গেছি।’
কাক নিয়ে নেটিজেনদের নানা ট্রল বা মন্তব্য প্রসঙ্গে ভাবনা জানান, কাক নিয়ে তিনি ছবি আঁকেন এবং এই ভালোবাসাকে বিদেশের মাটিতেও রিপ্রেজেন্ট করেছেন। তার কথায়, ‘আপনারা যে এই ‘কাক কাক’ করেন, আমি চাই আপনারা বরং তাদের একটু ভালোবাসুন। বারান্দায় একটু খাবার বা পানি দিন।’
সাক্ষাৎকারে তাকে আক্রমণ করা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিশোধ নেওয়ায় বিশ্বাস করি না। আমি সব সৃষ্টিকর্তা আর প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দেই। কারণ আপনি যদি নিজে প্রতিশোধ নেন, তবে প্রকৃতি সেটি নেবে না। আমি বিশ্বাস করি, আমার হয়ে প্রকৃতিই লড়বে এবং প্রকৃতির প্রতিশোধ হবে অনেক বেশি ভয়ংকর।’
মস্কো উৎসবে বেনারসি গাউন পরার নেপথ্যে থাকা দেশপ্রেমের কথাও জানান তিনি। ভাবনার কথায়, ‘বিদেশের মাটিতে পা রাখলে আমি আর ব্যক্তিগত ভাবনা থাকি না, আমি হয়ে উঠি বাংলাদেশ। রেড কার্পেটে সবুজ বেনারসিতে আমি আসলে নিজেকে বাংলাদেশের পতাকার আদলে তুলে ধরতে চেয়েছি। আমি চেয়েছি আমাদের বেনারসি যেন শুধু বিয়ের পোশাকে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হয়।’