বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ

ফাঁকা সড়কে স্বস্তি, ঈদের ছুটিতে বদলে গেছে ঢাকা

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে টানা সাত দিনের সাধারণ ছুটি। ছুটি শুরুর পর থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসীর বড় একটি অংশ। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

এর সঙ্গে টানা বৃষ্টির প্রভাব মিলিয়ে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতেও কমে এসেছে যানবাহন ও মানুষের চলাচল। চিরচেনা যানজট, হর্নের শব্দ আর ব্যস্ততার বদলে এখন নগরজুড়ে দেখা মিলছে অনেকটাই শান্ত ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের।

বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর, বনানী, মহাখালী, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে কিছু গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল থাকলেও অলিগলি ও সংযোগ সড়ক প্রায় ফাঁকা। অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কম থাকায় কোথাও দীর্ঘ যানজট চোখে পড়েনি। সকালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হননি। ফলে সড়কে মানুষের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাস যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে। গাবতলী-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী বসুমতি পরিবহনের বাসের হেলপার সোহেল বলেন, যখন অফিস খোলা থাকে তখন এই সময়ে বাসে দাঁড়ানোর সুযোগই পাওয়া যায় না। এখন যাত্রী কম, তাই বাসও কম চলছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস ভর্তি হচ্ছে না।

মোহাম্মদপুর-আব্দুল্লাহপুর রুটের প্রজাপতি পরিবহনের বাস হেলপার রুবেল বলেন, ঈদের সময় প্রায় প্রতিবছরই ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে মানুষ আরও কম বের হচ্ছে। সকাল থেকে যাত্রী খুবই কম। তবে রাস্তা ফাঁকা থাকায় গাড়ি দ্রুত চলাচল করতে পারছে। আগে যেখানে এক ঘণ্টা লাগত, এখন অনেক কম সময়েই গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে।

এদিকে, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও দেখা গেছে স্বস্তির ছাপ। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা জানিয়েছেন, গাড়ির চাপ কম থাকায় তাদেরও খুব বেশি বেগ পোহাতে হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আগামী ১ জুন (সোমবার) থেকে দেশের সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত খুলবে।

আরো