বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে মহাখালী বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহা বৃহস্পতিবার (২৮ মে)। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে তাই বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক ভিড়। সকাল থেকেই কাউন্টারগুলোতে সিরিয়াল ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডজুড়ে প্রায় প্রতিটি পরিবহনের কাউন্টারের সামনেই ছিল বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ ও বাসে ওঠার অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের।

এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-শেরপুর, ঢাকা-মধুপুর, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-হালুয়াঘাট ও ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। যাত্রীদের অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কাউন্টারে অবস্থান করেন। কেউ কেউ আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করছেন।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেছিঃ ভিড় অনেক বেশি হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফিরতে পারছি, এটাই বড় আনন্দ।

শেরপুরগামী আরেক যাত্রী নাসরীন জাহান বলেন, শেষ মুহূর্তে চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। তবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়িতে তো যেতেই হবে।

টাঙ্গাইলগামী আরেক নারী যাত্রী বলেন, বাসের সংখ্যা তুলনামূলক কম। শিশুদের নিয়ে অপেক্ষা করতে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও সবাই চেষ্টা করছে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে। যেহেতু আজ ঈদের আগের দিন, তাই কষ্ট কিছুটা করতেই হবে সেটা মেনেই নিয়েছি।

এদিকে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলগামী বেশ কয়েকটি বাসে কাউন্টারের বাইরে থেকে কন্টাক্টের মাধ্যমে যাত্রী উঠিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ৩০০ টাকা, সেখানে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী সাব্বির শেখ বলেন, ঈদের সময় মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়ি যায়, সেই সুযোগটাই নিচ্ছে কিছু পরিবহন। সাধারণ সময়ে ৩০০ টাকার ভাড়া এখন ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইলগামী আরেক যাত্রী মাহমুদুল অভিযোগ করে বলেন, প্রায় সব বাসেই বেশি ভাড়ায় যাত্রী তোলা হচ্ছে। আমি দুটি বাসে দামাদামি করেছি কিন্তু উঠিনি। এখন মনে হচ্ছে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।

তবে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। কেউ যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অর্থ লেনদেন না করার বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পরিবহন কাউন্টারের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি বলেন, কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। তবে কিছু বাসে কাউন্টারের বাইরে কন্টাক্টের মাধ্যমে টিকিটবিহীন যাত্রী তোলা হচ্ছে। মূলত এসব যানবাহনেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাখালী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। টার্মিনালের ভেতর ও বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য, বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ টিম, সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কমিউনিটি পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

আরো