রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

৪র্থ বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডে ২১ উদ্যোগকে সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটেগরিতে ১৩টি উদ্যোগ বিজয়ী এবং আটটি উদ্যোগ ‘অনারেবল মেনশন’ মর্যাদা অর্জন করে। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ গালায় দেশের আর্থিক প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবার মান উন্নয়ন, আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে অবদান রাখা উদ্যোগগুলোকে সম্মাননা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

এ বছর অ্যাওয়ার্ডের জন্য ২০৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত চারটি গ্র্যান্ড জুরি প্যানেলের মাধ্যমে মনোনয়নগুলো ধাপে ধাপে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়ী এবং ‘অনারেবল মেনশন’প্রাপ্ত উদ্যোগ নির্বাচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ফিনটেক উদ্ভাবনের মূল্য নির্ভর করে তা মানুষ ও ব্যবসার জন্য কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তার ওপর। আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করতে যেসব দল কাজ করছে, এই সম্মাননা তাদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। আমরা আশা করি, তাদের অর্জন মানুষের বাস্তব প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন নতুন ধারণায় বিনিয়োগ বাড়াবে এবং বাংলাদেশের আর্থিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে।”

অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট

দিনের প্রথম ভাগে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশ নেন।

সামিটে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, আরও বেশি মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা এবং গ্রাহকের আস্থা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বছরের সামিটে ছিল দুটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল আলোচনা, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ, একটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেস স্টাডি।

কিনোট সেশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সফাই গ্লোবালের চিফ ব্যাংকিং অ্যান্ড নেটওয়ার্ক অফিসার নওশাদ হুসেইন এবং জিএক্সব্যাংক, জিএক্সএস ব্যাংক ও গ্র্যাবের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও রিজিওনাল হেড অব প্রোডাক্ট খুয়ান ইউ লি। নওশাদ হুসেইন এর আগে লাইটনেট গ্রুপের গ্রুপ চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার, ইনসেপশন টেকনোলজি কো. লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সিআইএমবি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব গ্লোবাল রিটেইল পেমেন্টস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। খুয়ান ইউ লি এর আগে আলিবাবার গ্লোবাল পেমেন্টস বিভাগের সিনিয়র প্রোডাক্ট লিডার হিসেবে কাজ করেছেন।

নওশাদ হুসেইনের কিনোট সেশনে আঞ্চলিক ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন ও পারস্পরিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে, খুয়ান ইউ লি তাঁর সেশনে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংক গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অন্যান্য আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং, নগদবিহীন লেনদেন, বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগ, নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও তদারকির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ ও বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডের চতুর্থ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম।

আয়োজনটির সাপোর্টেড বাই পার্টনার ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩, ইনোভেশন পার্টনার বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ, অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার টার্কিশ এয়ারলাইন্স, হসপিটালিটি পার্টনার র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল, ঢাকা এবং পিআর পার্টনার ব্যাকপেজ পিআর।

আরো