টেকসই প্রাণিসম্পদ খাত সম্প্রসারণে উত্তম চর্চা বাস্তবায়ন জরুরি
দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে উত্তম কৃষি চর্চা বা গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আজ পিকেএসএফ ভবনে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্রাণিসম্পদ খাত সম্প্রসারণে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস বাস্তবায়ন’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শরিফুল হক বলেন, ‘‘আমরা দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নিরাপদ প্রাণিজ পণ্য উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে আছি”। দেশের উপযোগী মানদণ্ড তৈরিসহ যথাযথ সনদায়নের ব্যবস্থা করলে খামারিদের উপকার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ. বি. এম. মুস্তানুর রহমান টেকসই খাত গঠনে দেশীয় প্রেক্ষাপটে ‘গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস ফর লাইভস্টক গাইডলাইন’ তৈরি ও ব্যাপক প্রচারের ওপর জোর দেন।
পলিসি ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবির। তিনি বলেন, দেশে প্রাণিসম্পদ খাতে বৈশ্বিক GAP-এর অনুসরণ অপ্রতুল। খামার ব্যবস্থাপনা, প্রাণিজ পণ্য উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষা, মানসম্মত ভ্যাকসিন ও ভেটেরেনারি সেবার স্বল্পতার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট। ফলে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ‘বাংলাদেশ গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস ফর লাইভস্টক’ নীতি প্রণয়ন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পিকেএসএফ দেশব্যাপী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে খামারে আইওটি প্রযুক্তি, দুগ্ধ ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ, ভ্যাকসিন হাব এবং প্রাইভেট ভেটেরেনারি ল্যাব সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণই এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস গাইডলাইন প্রণয়ন করা গেলে তা এ খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের কর্মকর্তা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।