মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ

হলুদ খাওয়ার উপকারিতা কতটা সত্য? যা বলছে গবেষণা

রান্নাঘরের পরিচিত মসলা হলুদ। খাবারে রং, স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে এর ব্যবহার বহু পুরোনো। শুধু রান্নার উপকরণ হিসেবেই নয়, দীর্ঘদিন ধরে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রদাহ কমানো, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো, হাড় ও জয়েন্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় উপকার পাওয়ার দাবি রয়েছে। তবে হলুদের এসব গুণের কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত?

হলুদের আলোচিত উপাদান কারকিউমিন :

হলুদের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ। এই উপাদানকে ঘিরেই মূলত প্রদাহ কমানোসহ নানা উপকারিতার দাবি করা হয়। এ কারণে বর্তমানে বাজারে কারকিউমিন ও হলুদযুক্ত বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টও পাওয়া যায়।

গবেষণায় কেন প্রশ্ন উঠছে?

কারকিউমিন নিয়ে শতাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রসায়নবিদ ড. ক্যাথরিন নেলসন। তার মতে, কারকিউমিনের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য গবেষণার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি করে। এটি বিভিন্ন পরীক্ষায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, যাতে মনে হয় যৌগটি কার্যকর। অথচ বাস্তবে শরীরে এটি খুব সামান্য পরিমাণে শোষিত হয়।

মানুষের ওপর গবেষণার ফল :

কারকিউমিনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা যাচাই করতে মানুষের ওপরও বড় পরিসরে গবেষণা হয়েছে। কানাডার অধ্যাপক অমিত গার্গ ও তার সহকর্মীরা প্রায় ৬০০ রোগীকে নিয়ে একটি গবেষণা করেন। অস্ত্রোপচারের পর কিডনির ক্ষতি ও প্রদাহ কমাতে কারকিউমিন কোনো উল্লেখযোগ্য উপকার করে কি না, সেটিই ছিল গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু পরীক্ষায় এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরপর কিডনি রোগীদের ওপর আরেকটি গবেষণায় কারকিউমিনের বিশেষ ধরনের মাইক্রোপার্টিকল ব্যবহার করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কিডনির স্বাস্থ্য উন্নত করা কিংবা রোগের অগ্রগতি ঠেকানো। সেখানেও প্রত্যাশিত উপকারের প্রমাণ মেলেনি।

তাহলে কি হলুদ খাওয়া বন্ধ করতে হবে?

বিশেষজ্ঞরা এমন পরামর্শ দিচ্ছেন না। খাবারের সঙ্গে স্বাভাবিক ও পরিমিত পরিমাণে হলুদ খাওয়ায় আপত্তি নেই। বরং পছন্দের রান্নায় হলুদ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

তবে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বেশি মাত্রায় কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এসব পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

হলুদকে ঘিরে প্রচলিত অনেক স্বাস্থ্য দাবির পেছনে কিছু গবেষণা থাকলেও সব দাবিই এখনো প্রমাণিত নয়। তাই হলুদকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু এটিকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা বা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

আরো