২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপদ সড়ক গড়তে চায় সরকার: সড়কমন্ত্রী
২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপদ সড়ক গড়তে চায় সরকার। এ কথা জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অদক্ষ-অযোগ্য চালকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, কারও ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে মানুষের প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হতে হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালা এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেসব প্রকল্প থেকে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা না গেলে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেসব বড় প্রকল্প ও সড়ক নির্মাণ করা হবে, সেগুলোতেও এই তথ্য কাজে লাগাতে হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আমরা কত টাকা ব্যয় করছি, তার হিসাব আছে। কিন্তু অর্জন কতটা হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণের জিজ্ঞাসা আছে। এত দিন যা শিখছি, এত ব্যয় করে যা শিখছি, তার বাস্তবায়ন পাচ্ছি কি না, সেটি দেখতে হবে।
সড়ককে শুধু চলাচলের পথ হিসেবে না দেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় এর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, রাস্তাটা পর্যাপ্ত না ভাঙা পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না, এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আগেই সংস্কার করলে সম্পদটা সংরক্ষণ করা যায়।
সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশের জন্য বিশেষায়িত একটি বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এই বিভাগের সদস্যদের সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। তাঁদের দায়িত্বও স্থায়ী হওয়া উচিত, যাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।
শেখ রবিউল আলম বলেন, পুলিশের এমন একটা বিভাগ থাকা দরকার, যারা রোড সেফটি ও রোড ম্যানেজমেন্ট বোঝে, জানে এবং সেখানেই থাকবে। তারা প্রশিক্ষণ নেবে, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।
দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত, গতিনিয়ন্ত্রণ ও মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারে জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ফিটনেসযুক্ত বাহন নিশ্চিত করা, দক্ষ ও যোগ্য ড্রাইভার নিশ্চিত করা, গতিনিয়ন্ত্রণ করা, হেলমেট নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সচেতন করা ছাড়া রোড সেফটি নিশ্চিত করা কঠিন।
সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও দুটি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ব্যয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের সুফল তিনি নিশ্চিত করতে চান।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় হতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকতা বাংলাদেশে খুব ভালো হয়। কিন্তু বাস্তবায়ন করার জায়গায়, শেখার জায়গায় গিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। এই ধারার পরিবর্তন না হলে খুব বেশি কার্যকর হবে না।
কর্মশালায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জিয়াউল হক এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, এডিবি, হাইওয়ে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
