মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ

কর ও তামাক: রাজস্ব কমা—সতর্কতার সংকেত, নাকি জনস্বাস্থ্যের সাফল্য?

‌বি‌ডি মেইল ডেস্ক

তামাকজাত পণ্যে কর আদায় কমে যাওয়া—এটি কি ভালো খবর, নাকি উদ্বেগের কারণ? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিষয়টি একমাত্রিক নয়; এর পেছনের কারণ বিশ্লেষণই আসল।
সাধারণভাবে মনে করা হয়, তামাক থেকে রাজস্ব কমে গেলে হয়তো মানুষ ধূমপান কমাচ্ছে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু একই সঙ্গে আশঙ্কাও রয়েছে—অবৈধ বাজার বিস্তারের কারণে বৈধ কর আদায় কমে যেতে পারে।

অর্থনীতির বহুল আলোচিত “ল্যাফার কার্ভ” ধারণা অনুযায়ী, করের হার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে তা বাড়ালেও মোট রাজস্ব আর বাড়ে না, বরং কমে যায়। কারণ, অতিরিক্ত কর মানুষের আচরণ বদলে দেয়—তারা হয় ভোগ কমায়, নয়তো বিকল্প পথ খোঁজে।

তামাকের ক্ষেত্রে এই তত্ত্বটি আরও স্পষ্ট। সিগারেটের ওপর উচ্চ কর আরোপের মূল উদ্দেশ্যই হলো ধূমপান নিরুৎসাহিত করা। সে ক্ষেত্রে বিক্রি কমে যাওয়া এবং রাজস্ব হ্রাস—দুটোই নীতিগতভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল হতে পারে, যদি মানুষ সত্যিই ধূমপান কমিয়ে দেয়।

তবে বাস্তব চিত্র সবসময় এত সরল নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নটি হলো—ধূমপায়ীরা কি সত্যিই তামাক ছেড়ে দিচ্ছেন, নাকি তারা সস্তা বিকল্প যেমন বিড়ি বা অবৈধ সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন? যদি দ্বিতীয়টি ঘটে, তাহলে রাজস্ব কমলেও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি নাও হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও এই শঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, করের হার অত্যধিক বেড়ে গেলে বৈধ ও করযুক্ত সিগারেটের বাজার দখল করে নেয় অবৈধ পণ্য। এতে সরকার রাজস্ব হারায়, আবার নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবৈধ তামাকের বাজার দ্রুত বিস্তারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় এসব পণ্যে ঝুঁকছে নিম্নআয়ের ভোক্তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তাই তামাক থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ার অর্থ সরাসরি “মানুষ কম ধূমপান করছে”—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বরং প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের তথ্য, বাজার বিশ্লেষণ এবং ভোক্তা আচরণের গভীর পর্যবেক্ষণ।
সবশেষে, করনীতি নির্ধারণে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা, অন্যদিকে অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ—দুটোই নিশ্চিত করতে হবে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে।

আরো