রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পরিবেশ কার্নিভাল ২০২৬”। ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস পরিবেশ ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে ব্যক্তি, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ। এছাড়া বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের পরিচালক গাওস পিয়ারী এবং ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালক রেহানা পারভীন।
ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এখন আর কোনো একক খাতের দায়িত্ব নয়; এটি উন্নয়ন, অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোগ, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গাওস পিয়ারী বলেন, মানুষের সুস্থতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ রক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও সামাজিক চর্চার অংশে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

রেহানা পারভীন শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

কার্নিভালে পরিবেশবিষয়ক আলোচনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা নগরায়ন, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারকে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা সম্প্রসারণ, নগর পরিকল্পনায় সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, প্লাস্টিক দূষণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং তরুণদের সম্পৃক্ততায় স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরো