কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে: কৃষি মন্ত্রী
আলী আহসান রবি
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্র আজ রাধানীর খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি
মোঃ আহসানুজ্জামান লিন্টুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি ও
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি এমপি।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কৃষি পণ্যের চাহিদার প্রকৃত তথ্য না থাকায় চাহিদার চেয়ে কৃষি পণ্য উৎপাদন অনেক ক্ষেত্রে বেশি হচ্ছে, এতে অপচয় বাড়ছে। কৃষক ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যয্য দাম পাচ্ছেনা আবার ভোক্তারাও সঠিক দামে পণ্য কিনতে পারছেনা। কৃষক কার্ড চালু করার উদ্দেশ্য এ সমস্যা কমানো। ‘কৃষক কার্ড’ পাইলটিং হচ্ছে। পুরোপুরিভাবে চালু হলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হবে, কোন কৃষি পণ্য অপচয় হবে না। ক্রেতা ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হবে।
কৃষিখাতে গবেষণা ও বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গবেষণা ছাড়া কৃষি অচল, নিশ্চয়ই গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো দরকার তবে বর্তমানে যেটুকু বরাদ্দ আছপ তার সঠিক ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তাও বিবেচনা করতে হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যেকোন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন, বিপণন, প্রণোদনা, নতুন জাতের সম্প্রসারণ ও যান্ত্রিকীকরণসহ সব কিছু বিজ্ঞানসম্মত ও প্রয়োজনমাপিক হবে।
কৃষি দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষকের অর্থনীতির উন্নয়ন হলে দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ স্থায়ী হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত একজন কৃষক নিশ্চিতভাবে জানছেন যে তার কোন ফসল কি পরিমাণে উৎপাদন করা প্রয়োজন ততক্ষণ তারা লাভবান হতে পারবেনা।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী পোলট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার রোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র খামারিদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আহমেদ সাকী এমপি বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। আমরা ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধিতে যেতে চাই। পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও উত্তরণ এই তিন ধাপে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, প্রফেসর গোলাম হাফিজ কেনেডি ও প্রফেসর ড. মোঃ ওয়াকিলুর রহমান।