মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ

এলডিসি উত্তরণে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ (রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট) এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট ফর রেজিলিয়েন্ট সাপ্লাই চেইনস অ্যান্ড ট্রেড কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় বাংলাদেশ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতার মাধ্যমে দেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শুধু কম উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে না; বরং টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, শ্রমমান, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার ওপর নির্ভর করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ভোক্তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত নতুন বিধি-বিধান ও প্রত্যাশা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

তিনি বলেন, এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা জোরদার করা গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামূলক উৎসদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে উচ্চমূল্যের ও উদীয়মান বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, টেকসই ও গুণগত বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা আরও শক্তিশালী হবে।

সরকার টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণসংক্রান্ত নীতি সমন্বয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবুজ শিল্পচর্চা সম্প্রসারণ, টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও সামাজিক প্রতিপালন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণকেন্দ্রিক একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে এবং নীতিগত নির্দেশনা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবসায়িক চর্চায় রূপান্তর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, শিল্প সমিতি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বড় ও ছোট—সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে দায়িত্বশীল চর্চা গ্রহণ করতে পারবে এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।’

অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দায়ারাত্নে এবং কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পেরি। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ।

আরো